সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (জন্ম ১৯৩৬) বাংলা সাহিত্য ও শিক্ষাজগতের এক বিশিষ্ট নাম, যিনি পেশায় অধ্যাপক এবং অঙ্গীকারে লেখক—এই দুই সত্তার মাঝে একটি অবৈরী, সৃজনশীল দ্বন্দ্ব তাঁর লেখনীকে করেছে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক। রাজশাহী, কলকাতা, ঢাকা এবং ইংল্যান্ডের লিডস ও লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষালাভ করে তিনি সাহিত্যতত্ত্ব ও সমালোচনায় নিজেকে তৈরি করেন এবং দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। পেশাগত দায়িত্বের প্রতি অগাধ নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অবসরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমেরিটাস পদে মনোনীত হয়েছেন, যা তাঁর বিদ্যাচর্চার অসামান্য মর্যাদার প্রমাণ। তিনি যেমন শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে ক্লান্তিহীন, তেমনি গবেষণা ও সৃজনশীল লেখায়ও তিনি নিরলস—আশির কাছাকাছি গ্রন্থ তাঁর একাগ্রতার সাক্ষী। তাঁর রচনাবলিতে সাহিত্যতত্ত্ব, সমালোচনা, গবেষণা ও জীবনানুভূতির নানান স্তর মেলবন্ধন ঘটেছে, যা তাকে পাঠক ও গবেষক উভয়ের কাছেই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি ‘নতুন দিগন্ত’ নামক সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করছেন, যা বাংলা সাহিত্যের সমসাময়িক চর্চায় একটি উজ্জ্বল দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তাঁর জীবনসঙ্গী অকালপ্রয়াত ড. নাজমা জেসমিন চৌধুরীও ছিলেন লেখিকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, যার স্মৃতি ও সহচর্য তাঁর লেখায় অনেকখানি প্রভাব ফেলেছে। আজীবন লেখক ও শিক্ষকের দ্বৈত দায়িত্ব পালন করে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রমাণ করেছেন যে, জ্ঞানচর্চা এবং সৃজনশীলতা একসঙ্গে চলতে পারে এবং পারস্পরিক শক্তিবৃদ্ধি ঘটাতে পারে।